ট্রাংক - মনে আছে কি কারো? বছর বিশেক আগেও প্রায় প্রতিটি সাধারণ বাঙালির ঘরেই ছিল এর সগর্ব উপস্থিতি। নতুন কনের লাল শাড়ি, বাবার জমানো জমিজমার দলিল, কিংবা প্রিয়জনকে লেখা শেষ চিঠি-সব যত্ন করে তুলে রাখা হতো এই বাক্সে । বলছি টিনের ট্রাংকের কথা।
বিয়ে, দূর পড়াশোনা, কিংবা জীবনের প্রয়োজনে প্রথম বাড়ি ছাড়া-সব নতুন যাত্রায় এই ট্রাংকই ছিল নিঃশব্দ, বিশ্বস্ত এক সঙ্গী।
সময় বদলেছে - বদলেছে মানুষের ব্যবহার্য জিনিসপত্রেরও। ট্রাংকের পরিবর্তে আধুনিকতার ভিড়ে জায়গা করে নিয়েছে স্টিলের আলমারি, হালকা ট্রলি ব্যাগ আর প্লাস্টিকের স্টোরেজ বক্স। সময়ের দ্রুত পরিবর্তনে ট্রাংক তাই আজ অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়, প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে।
হারিয়ে যেতে বসলেও ঐতিহ্যটা এখনো একেবারে মুছে যায়নি। সিলেট নগরের ঝালোপাড়ায় গেলে এখনো কানে আসবে টিন কাটার ধারালো শব্দ আর কারিগরের হাতুড়ির ঠকঠক আওয়াজ।
এখানে কয়েকটি কারখানায় এখনো তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী এই টিনের ট্রাংক। কাজের চাপ আগের মতো না থাকলেও ব্যস্ততা থেমে নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ট্রাংকের চাহিদা একেবারেই হারিয়ে যায় নি - এখনো বাজারে ছোট-বড় ও আকারভেদে ৫০০ থেকে ১০/২০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয় এসব ট্রাংক। তবে বিক্রির হিসাব মেলাতে গিয়ে মালিকদের কণ্ঠে স্পষ্ট আক্ষেপ। চাহিদা কমলেও পেটের দায়ে কিংবা কয়েক দশকের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এখনো টিকে আছে এই কারুশিল্প।
ফ্যাশন আর আধুনিকতা বদলে গেলেও, হয়তো কোনো এক পুরোনো ঘরের কোণে আজও সযত্নে জমা থাকে এক টুকরো অতীত। স্মৃতি হয়ে জমে থাকে টিনের ট্রাংকে।