হাওর অঞ্চল সুনামগঞ্জের তরুণদের স্বপ্নজুড়ে ইউরোপ। উন্নত জীবনের আশায় দালালের চক্করে পড়ে নিচ্ছেন জীবন ঝুঁকি।
দালালের নানান প্রতারণায় যাত্রাপথে কেউ পড়ছেন মানবপাচারকারী চক্রের কবলে, কেউ ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে। আবার কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন সাগরের গভীর জলে।
সুনামগঞ্জের কয়েকজন তরুণ গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর গত ৩ আগস্ট রাতে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। যাত্রার আগের দিনও অনেকে দেশে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এরপর থেকে আর পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।
গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটিতে ছিলেন ৪২ জন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি। পথে নৌযানটি বিকল হয়ে যায় এবং খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের ৯ তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন শান্তিগঞ্জের, জগন্নাথপুরের ২ জন এবং দিরাই উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নিখোঁজদের পরিবারে চলছে আহাজারি। প্রিয়জনের খোঁজ মিলবে কি না - এ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় সময় পাড় করছেন স্বজনরা।
এদিকে, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথমে সুনামগঞ্জের কয়েকজনকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারের খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য জানা যায়। তবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে কাজ এখনও চলমান।
এর আগে, গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ছিলেন অন্তত ১০ জন।