মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ শতাংশই আসে ইলিশ থেকে। বছরে উৎপাদন ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার টন, যার বাজারমূল্য ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশেরও বেশি মেলে আমাদের এই বাংলাদেশে। |
কিন্তু সাফল্যের এই গল্পের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় অশনিসংকেত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল পরিবর্তনটা উৎপাদনের পরিমাণে নয়, বরং ইলিশের বাসস্থানে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ৯৪ শতাংশ ইলিশই মিলতো নদীতে। আর এখন চিত্রটি পুরোপুরি উল্টো। ৭২ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ছে সাগরে, নদীতে মাত্র ২৮ শতাংশ। |
কেন নদী ছেড়ে সাগরমুখী হচ্ছে ইলিশ? গবেষকরা বলছেন— উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ, নদীর নাব্য হারানো, দূষণ এবং অতিরিক্ত আহরণই এর প্রধান কারণ। ইলিশের প্রজনন মূলত কম লবণাক্ত মিঠা পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মেঘনা-তেঁতুলিয়ার মতো আদর্শ প্রজননক্ষেত্রগুলো আজ হুমকির মুখে। |
বর্তমানে ইলিশ রক্ষা বলতে আমরা বুঝি ক্যালেন্ডারের তারিখ ধরে ২২ দিনের মা ইলিশ ও ৮ মাসের জাটকা সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইলিশ কোনো পঞ্জিকা বা তারিখ চেনে না, তারা সাড়া দেয় পানির তাপমাত্রা ও গুণাগুণের ওপর। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নদীর জীববৈজ্ঞানিক সূচক মেনেই নিষেধাজ্ঞার সময়কাল নির্ধারণ করা জরুরি। |
প্রকৃতি বা ইলিশ কোনো প্রতিবাদ করবে না। নদী যদি দূষিত, অগভীর আর লবণাক্ত হয়ে পড়ে, তবে ইলিশ আর ফিরে আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে ইলিশ টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু জেলেদের আটকে রাখাই সমাধান নয়, নিশ্চিত করতে হবে নদীর দূষণমুক্ত ও স্বাভাবিক প্রবাহ। কারণ, ইলিশ অনুসরণ করে কেবল পানির সংকেত।