"খেলার মাঠ থেকে পার্লামেন্ট...
স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে রাজধানীর রাজপথ...
আজ নরওয়ের সর্বত্র একটাই উদযাপন - 'ভাইকিং রো'।"
যা শুধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি কাঁপায় না, ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক হাজার বছরের ইতিহাসে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে নরওয়ের এই অনন্য উদযাপন - 'ভাইকিং রো'।
হাজারো নরওয়েজিয়ান সমর্থক সারিবদ্ধভাবে বসে, শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে, বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে একসঙ্গে উচ্চারণ করছেন 'রো'...
প্রথম দেখায় এটি হয়তো সাধারণ একটি উদযাপন মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে একটি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস।
অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী - এই সময়টিই ইতিহাসে পরিচিত ভাইকিং যুগ হিসেবে। তখনকার নরওয়ে ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সমুদ্রযাত্রী জাতির আবাসভূমি। ভাইকিংরা শুধু যোদ্ধাই ছিলেন না।
তারা ছিলেন দক্ষ নাবিক, জাহাজ নির্মাতা, ব্যবসায়ী এবং অভিযাত্রী।
তাদের নির্মিত 'লংশিপ' ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে উন্নত সমুদ্রযান, যার সাহায্যে তারা উত্তর আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড এমনকি উত্তর আমেরিকাতেও পৌঁছে গিয়েছিল - যা ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানের প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগের ঘটনা।
ভাইকিং রো শুধুই একটি গোল উদযাপন নয়...
এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাসের প্রতি সম্মান এবং জাতীয় পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ।
ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নরওয়ে যেন আবারও জানিয়ে দিচ্ছে - এক হাজার বছর আগের ভাইকিংদের গল্প আজও শেষ হয়নি, তা নতুন রূপে বেঁচে আছে প্রতিটি 'রো' ধ্বনির সঙ্গে।