ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকালে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) অনুষ্ঠিত এ জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধানসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং খামেনির পরিবারের সদস্যরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই। এছাড়া খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফাও জানাজায় অংশ নেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি তাঁর বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দিনে তেহরানে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত নয়নে লাখো মানুষ প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান। জানাজা উপলক্ষে পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে। আগামী সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
শোকমিছিল শেষে মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। এরপর বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দুই শহরেও শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন এবং জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা আলী খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।