https://thesylhet.tv/

1018

international

বিদেশ

ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার কেন? তদন্ত চাইল ইউরোপ, বিতর্কে ইনফান্তিনো!

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ ১৮:১৫
প্রতিবেদক: দ্যা সিলেট ডেস্ক

ফুটবল কি সত্যিই রাজনীতির ঊর্ধ্বে?
নাকি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটিও এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু?

নতুন করে উঠেছে এই প্রশ্ন, যখন ফিফার প্রথম 'শান্তি পুরস্কার' দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

আর এরপরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়েছেন—এই পুরস্কার কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী বিবেচনায় দেওয়া হলো, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।

তাদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ।

তাদের ভাষায়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যদি একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্যজনের তুলনায় বিশেষ গুরুত্ব দেন, তাহলে সেটি শুধু ফিফার নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং বিশ্বকাপের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ব্যারি অ্যান্ড্রুজ বলেন, "আমরা শুধু চাই, ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটি প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করুক এবং নিশ্চিত করুক যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।"

তবে এটিই প্রথম নয়।

এর আগেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বহু সদস্য ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
তাদের দাবি ছিল, সেই সিদ্ধান্তেও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি ফিফা।
বরং কিছুদিন পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে বড় অঙ্কের একটি স্পন্সরশিপ চুক্তি করে সংস্থাটি।
এর মধ্যেই আরেকটি তথ্য সামনে এসেছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা লন্ডনভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান Ten Toes Media-এর সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর একটি চুক্তি করেছে।
যার উদ্দেশ্য—২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফা এবং এর শীর্ষ নেতৃত্বের জনসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা করা।

যদিও ফিফা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনেক অভিযোগ 'মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর' এবং প্রয়োজন হলে তারা আইনি ব্যবস্থাও নেবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনও মেলেনি।

ট্রাম্পকে দেওয়া 'ফিফা শান্তি পুরস্কার'—সেটি কি সত্যিই নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ফল, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো প্রভাব?এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ভবিষ্যতের তদন্ত দেবে।

কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত...
ফুটবল শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নেই।

আজ এর প্রতিটি সিদ্ধান্তও বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষার মুখোমুখি।

/*** Link Copy ***/ /*** Link Copy ***/