একসময় টিকাদানের সাফল্যে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বে হাম সংক্রমণের শীর্ষে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'ডব্লিউএইচও'র সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে দেশে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন। এই সময়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত রোগী শনাক্ত হয়নি। বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মাত্র এক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। জুন মাসের প্রতিবেদনে সংক্রমণের শীর্ষে ছিল ভারত। কিন্তু জুলাইয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ভয়াবহভাবে বেড়েছে হামের সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭০২ জন আর হাম নিশ্চিত হওয়া ৯৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। ডব্লিউএইচও বলছে, এক বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার আক্রান্ত শিশুর মধ্যে চার হাজারের বেশি হামের দুই ডোজ টিকার একটিও পায়নি। এক থেকে চার বছর বয়সী চার হাজার আক্রান্ত শিশুর মধ্যে দেড় হাজার কোনো টিকাই পায়নি। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও হিসাব অনুযায়ী এখনো টিকার বাইরে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের কাভারেজ কমে যাওয়া এই পরিস্থিতির অন্যতম একটি কারণ। যেখানে হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়, সেখানে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদানের হার নেমে আসে মাত্র ৫৯ শতাংশে। হাম আক্রান্ত একজন ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে না পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হবে আরও কঠিন।