শরতের নীল আকাশ, কাশফুল আর প্রকৃতির বদলে যাওয়া রূপ যেন জানান দিচ্ছে দেবীর আগমনের। সেই আগমনী সুর এখন ছড়িয়ে পড়েছে মৃৎশিল্পীদের কর্মশালাতেও। খড়, মাটি আর বাঁশের কাঠামোকে অবলম্বন করে শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছেন মৃন্ময়ী দেবী। প্রথম প্রলেপের মাটি শুকিয়ে এলে পড়বে আরও এক স্তর মাটির পরশ, এরপর রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
কোথাও ১০০ হাতের শক্তিরূপিণী, কোথাও একচালার সনাতন প্রতিমা। মাটির তৈরি দূর্গা প্রতিমা, লক্ষী-প্যাঁচা, সিংহ, হংস, মহিষ কিংবা মহিষাসুর, দক্ষ হাতে তৈরি করছেন মৃৎশিল্পীরা। কাদার গন্ধেই যেন মিশে আছে দেবীর আরাধনার প্রথম সুর।
মৃৎশিল্পীদের ঘরে যখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, তখন পূজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন বিক্রেতারাও। শঙ্খ, ঘন্টা, প্রদীপ, পঞ্চপ্রদীপ, ঘট, ধূপসহ পূজার নানা উপকরণে সাজছে দোকানগুলো। উৎসবকে ঘিরে জমে উঠছে কেনাবেচার প্রস্তুতি।
এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে আর গমন করবেন নৌকায়। আগামী ১০ই অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে দেবী পক্ষ। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী থেকে শুরু হবে মূল পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব। আর ২১শে অক্টোবর বিজয়দশমীর মধ্য দিয়েই শেষ হবে শারদীয় এই মহোৎসব।