নব্বইয়ের দশক কিংবা তারও আগে - গ্রামবাংলার সন্ধ্যা নামলেই বদলে যেত চারপাশের পরিবেশ। উঠোনে ঝিঁঝি পোকা আর জোনাকির মেলা। আর একটু দূরের ধানক্ষেত কিংবা ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আসত খেঁকশিয়ালের ডাক।
ছোটবেলার গল্প, ছড়া কিংবা ঠাকুরমার ঝুলিতে খেঁকশিয়াল ছিল পরিচিত এক চরিত্র। বইয়ের পাতার বাইরেও গ্রামের প্রকৃতিতে দেখা মিলত এই প্রাণীর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র।
বাংলাদেশের পরিচিত এই বন্যপ্রাণীটির ইংরেজি নাম বেঙ্গল ফক্স। আকারে ছোট, শরীর হালকা, পা তুলনামূলক খাটো। বড় ও লম্বা কান, সরু মুখ আর ঘন লেজ-যার ডগার রং কালো। এসব বৈশিষ্ট্যেই সহজে আলাদা করা যায় খেঁকশিয়ালকে।
তবে অনেক সময় খেঁকশিয়ালকে পাতিশিয়ালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা। অথচ খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে পার্থক্য। খেঁকশিয়াল সাধারণত ইঁদুর, পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ, ফল এবং মৃত প্রাণী খেয়ে থাকে। অন্যদিকে পাতিশিয়ালের খাদ্যতালিকায় রয়েছে খামারের হাঁস-মুরগি।
মানুষের ভুল ধারণা আর ভয় থেকেও অনেক সময় খেঁকশিয়ালকে হত্যা করা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আবাসস্থল ধ্বংস ও সংকোচন। ফলে শুধু সংখ্যা নয়, কমছে এদের বিস্তৃতিও। আইইউসিএন (IUCN) বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে খেঁকশিয়ালকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়েই প্রাণীটির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এখনও খেঁকশিয়ালের দেখা মেলে। কোথাও কোথাও দলবদ্ধভাবেও দেখা যায়। তবে এসব এলাকাতেও আগের তুলনায় এদের উপস্থিতি কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশে দিন দিন সুপরিচিত প্রাণীগুলো যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সে হিসেবে আসলে ঝুঁকিপূর্ণ শব্দটা থেকে বিপন্ন শব্দ শুনতে হবে সবার। অচিরেই রুপকথার গল্প কিংবা বইয়ের পাতায় দেখতে হবে নামগুলো।