সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিষপ্রয়োগে তিন শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। তাদের বাবা নিজেও বিষপানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের বিষ খাইয়ে তিনি নিজেও বিষপান করেছেন।
বিকেলে বাজার থেকে মুরগি কিনে এনেছিলেন বাবা। রাতে সেই মুরগির তরকারি রান্না করে সন্তানদের নিয়ে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন সবাই। কিন্তু গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বিষের গন্ধ। দ্রুত শিশুদের স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পল্লিচিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতরা হলো-সাত বছর বয়সী মাওয়া আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী শামিম মিয়া ও দুই বছর বয়সী তামিম মিয়া।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামের নিজ ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বিষপান করেন সরাফত আলী। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থাও চরম সংকটাপন্ন।
স্বজনেরা জানান, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বিদেশে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল। সরাফত আলীর অমতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান ফাতেমা বেগম। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সরাফত আলী। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, একই জেলায় এর আগে গত আগস্ট মাসে দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের মধুপুর এলাকায় দুই সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে বাবা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় কামরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পরপর এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, পারিবারিক কলহের জেরে কেন নিষ্পাপ শিশুদের এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হচ্ছে?