প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪০ (বৃহস্পতিবার)
দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্বপ্নের পথে রেশমা

চোখে আলো নেই - তবুও তার কণ্ঠই যেন হয়ে ওঠে আলোর উৎস। দৃষ্টি তাকে থামাতে পারেনি; বরং স্পর্শ, শ্রবণ আর মেধাকে সঙ্গী করে নিজের পৃথিবীটা সে নিজেই এঁকে চলেছে প্রতিনিয়ত।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা আক্তার রিয়া। সিলেটের  এই কিশোরী জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন। কিন্তু অন্ধকার তার স্বপ্নকে অন্ধ করতে পারেনি। স্পর্শ দিয়ে অক্ষর চিনে পড়াশোনা করে রেশমা। পড়াশোনার পাশাপাশি গান গায়, দক্ষ হাতে হারমোনিয়ামও বাজায়। 

তার বাবা খুরশেদ আলম একজন কাঠমিস্ত্রি। সংসারের সীমাবদ্ধতার মাঝেও মেয়ের স্বপ্নে কোনো সীমারেখা টানতে চান না মা শিলন বেগম। মায়ের উৎসাহেই গানের প্রতি রেশমার ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।

একটি শিশুর প্রতিভা বিকশিত হতে কখনো কখনো বড় কোনো সুযোগের প্রয়োজন হয় না - প্রয়োজন হয় পাশে দাঁড়ানো কয়েকটি মানুষের। আর রেশমার পাশে আছেন তার শিক্ষক, সহপাঠী এবং এই প্রতিষ্ঠান।

এখানে কেউ ব্রেইলে পড়ছে, কেউ গান শিখছে, কেউ বাদ্যযন্ত্রে খুঁজে নিচ্ছে নিজের স্বপ্নের সুর। প্রতিবন্ধকতা তাদের থামিয়ে রাখেনি; বরং নিজেদের সক্ষমতার অন্য দরজাগুলো খুলে দিয়েছে।

এই পথের আরেক অনুপ্রেরণার নাম সমীরঞ্জন বিশ্বাস। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও তবলার তালে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। বেতারের নিয়মিত এই শিল্পী গ্রাজুয়েশন শেষ করে এখন এখানেই শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন -
নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেখাচ্ছেন, চোখের দৃষ্টি না থাকলেও স্বপ্নের কোনো অন্ধত্ব নেই।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ১৯৯৭ সালে সিলেটের জিন্দাবাজারে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাতা রজব আলী খান নিজেও ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আজও তার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে চলছে এই মানবিক উদ্যোগ।

কিন্তু সম্ভাবনাগুলোকে আরও দূর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে প্রয়োজন আরও সহযোগিতা - প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, সামাজিক দায়িত্ব এবং মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
নেলসন ম্যান্ডেলার একটি কথা - “It always seems impossible until it's done.” অসম্ভব মনে হওয়া কাজটিই একদিন সম্ভব হয়ে ওঠে - যখন মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতার চেয়ে নিজের সম্ভাবনাকে বড় করে দেখে।

প্রকৃতির বৈচিত্র্যের মতোই মানুষের সক্ষমতাও ভিন্ন। কেউ দেখে চোখ দিয়ে, কেউ শব্দে, স্পর্শে, কেউ অনুভবে খুঁজে পায় তার পৃথিবীর মানচিত্র।  সবার সহযোগিতা পেলে ওরাই হতে পারে দেশের সম্পদ।