শঙ্খ-ধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ আর ভক্তিগীতিতে মুখর সিলেট নগরী। কোথাও ফুলে সাজানো মন্দির, কোথাও কৃষ্ণনামে ভক্তদের সমাগম। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস—অন্যায় ও অশুভ যখন সমাজকে গ্রাস করে, তখন সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখাতেই পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটে শ্রীকৃষ্ণের।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার। মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে তাঁর জন্ম। সেই জন্মস্মৃতিকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় জন্মাষ্টমী।
শুক্রবার সিলেট নগরীর ইসকন মন্দির, নিম্বার্ক আশ্রম, বলারাম জিউর আখড়াসহ বিভিন্ন মন্দিরে আয়োজন করা হয় জন্মাষ্টমীর নানা আনুষ্ঠানিকতা। পঞ্চামৃত, দুধ, ডাবের পানিসহ বিভিন্ন উপাদানে বিগ্রহ স্নান করানো হয়। মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয় শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক।
এরপর বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির আবহে পরিবেশিত হয় বিভিন্ন গান। সঙ্গে ছিল নৃত্যানুষ্ঠানও
ভক্তদের কাছে জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং অন্ধকারের বিপরীতে আলোর প্রত্যয়ের প্রতীক। তাঁদের বিশ্বাস - সকল অশুভকে বিনাশ করে সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ই এই উৎসবের অন্যতম বার্তা। আর সকলের মঙ্গল কামনাই জন্মাষ্টমী উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য।