প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৬ (বৃহস্পতিবার)
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা : নিহত ৫২৬, মরদেহের চাপে মর্গে স্থান সংকট

বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়ার দিকে আচমকাই ধেয়ে আসে পাহাড়ি ঢল। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানির সাথে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি ও পাথর। মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় চারপাশ। এই তাণ্ডবে নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫২৬ জন, আহত প্রায় দেড় হাজার। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আড়াই হাজারের কাছাকাছি মানুষ। অন্যদিকে, তিব্বত অংশেও পাঁচজনের মৃত্যু ও ৫৫৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে।

নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক। মূলত বন্যা কবলিত এলাকার পাশেই তিব্বতের বিখ্যাত তীর্থস্থান 'কৈলাস মানস সরোবর'। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসু বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এবং বিদেশি পর্যটক সেখানে অবস্থান করায় এক জায়গাতেই এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি নিখোঁজ হয়েছেন।

এদিকে, পাহাড় থেকে ভেসে যাওয়া শত শত মরদেহ এখন উদ্ধার হচ্ছে বহু দূরের ভাটি অঞ্চল থেকে। একের পর এক মরদেহ আসতে থাকায় নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা ও নাওয়ালপরাসির হাসপাতালগুলোর মর্গে তিল ধারণের জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে মরদেহগুলো পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপায় পাঠানো হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মরদেহ সামলাতে চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অব্যবহৃত ভবনে প্রস্তুত করা হয়েছে অস্থায়ী মর্গ।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রসের তথ্যমতে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ। বিপর্যয় মোকাবিলা ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের তহবিল চেয়েছে সংস্থাটি।