প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫৭ (বৃহস্পতিবার)
জরুরি বৈঠকে উয়েফা, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে যেতে পারে ৫৫ দেশ!

বিশ্বকাপের স্বত্ব বা মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সদস্যভুক্ত ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে সংস্থাটি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উয়েফা ফিফার এ উদ্যোগকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে। জরুরি বৈঠকে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোচনায় থাকা কঠোর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কট করা। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউরোপের কোনো দেশই পরবর্তী পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্যমতে, উয়েফাভুক্ত দেশগুলো মনে করে, ইউরোপীয় দলগুলো বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে ফিফা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

জরুরি বৈঠকের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ফিফা সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তাদের হয় প্রস্তাবে সম্মতি দিতে হবে, নয়তো এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

উয়েফা আরও বলেছে, ফিফার এই কৌশলই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে। সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে তারা বুঝতে পেরেছে, ফিফার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। উয়েফার ভাষ্য, ‘ফিফা আমাদের খেলাকে ব্যবহার করে নিজেদের এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের লাভবান করতে পারে না। ফুটবলের উন্নয়ন হওয়া উচিত অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব, লিগ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে।’

এদিকে, বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া ঘিরে ‘ঘুষের প্রলোভন’ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ফিফার বিরুদ্ধে। ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, তারা পরে চুক্তি করা দেশগুলোর তুলনায় বেশি অর্থ পাবে।

বিতর্ক আরও বেড়েছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছে ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ নামের একটি ফান্ড, যার মালিক জোশুয়া কুশনার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভানকা ট্রাম্পের দেবর।

এর আগে গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা হয়। সে সময় খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছিল।

বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউরোপের বড় ফুটবল শক্তিগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থানকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এ প্রস্তাব সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিল না। সংস্থাটি বলেছে, প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এর শর্তাবলি সম্পর্কে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এখন পর্যন্ত পাওয়া সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিফা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করলে এরপর তারা নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।