প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৬ (বৃহস্পতিবার)
কাল ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর আগামীকাল ঢাকা সফরে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মার্কিন প্রশাসনের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরে সরকারপ্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে। তাদের ধারণা, বাংলাদেশ যেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও মার্কিন কৌশলগত বলয়ের বাইরে না যায় - এমন বার্তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহযোগিতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় তাদের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সফরে গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও নিজের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, সার্জিও গোর যেহেতু একই সঙ্গে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, তাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বিষয়গুলোও তার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কোয়াড, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতির সঙ্গে এসব বিষয় নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সফরকালে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নয় - এ বার্তাও সফরকালে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ দৃষ্টিকোণ থেকে সার্জিও গোরের ঢাকা সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ।