অনেকেই দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন। তবুও ক্যাভিটি, মুখের দুর্গন্ধ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কিংবা দাঁতে পাথর জমার মতো সমস্যায় ভোগেন। কারণ, শুধু ব্রাশ করলেই হবে না; সঠিক ব্রাশ, সঠিক টুথপেস্ট এবং সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক টুথব্রাশ:
অনেকেই মনে করেন, শক্ত ব্রাশ দিয়ে জোরে ঘষলেই দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা।
ডেন্টিস্টরা সাধারণত সফট ব্রিসল টুথব্রাশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কারণ শক্ত ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়, মাড়ি সরে যাওয়া এবং দাঁতে সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। ব্রাশের মাথা ছোট হওয়া ভালো, যাতে মুখের সব দাঁত সহজে পরিষ্কার করা যায়। আর প্রতি তিন মাস পর, অথবা ব্রিসল ছড়িয়ে গেলে ব্রাশ পরিবর্তন করুন।
শুধু ভালো ব্রাশ নয়, জরুরি সঠিক পদ্ধতি:
ডেন্টিস্টরা Modified Bass Technique অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।
ব্রাশটি মাড়ির সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে ছোট ছোট বৃত্তাকার বা কম্পনময় স্ট্রোকে পরিষ্কার করুন। এরপর আলতোভাবে দাঁতের দিকে সুইপ করুন।
মনে রাখবেন, জোর নয় - সঠিক টেকনিকই দাঁত পরিষ্কারের মূল পন্থা।
প্রতিবার অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে দাঁতের বাইরের, ভেতরের ও চিবানোর অংশ পরিষ্কার করুন। শেষে অবশ্যই জিহ্বাও পরিষ্কার করুন, কারণ মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ জিহ্বায় জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া।
সঠিক টুথপেস্ট যাচাই:
একটি ভালো টুথপেস্টে Fluoride থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে ১,৩৫০ থেকে ১,৫০০ ppm Fluoride-যুক্ত টুথপেস্ট সবচেয়ে উপযোগী।
দাঁতে সংবেদনশীলতা থাকলে Potassium Nitrate বা Stannous Fluoride-যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। আর মাড়ির সমস্যার ক্ষেত্রে Stannous Fluoride-যুক্ত টুথপেস্ট উপকারী হতে পারে।
তবে শুধু "ইনস্ট্যান্ট হোয়াইটেনিং" বা "ম্যাজিক টুথপেস্ট" লেখা দেখে কোনো পণ্য কিনবেন না। কিছু উচ্চ ঘর্ষণক্ষম টুথপেস্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হতে পারে। তাই টুথপেস্ট কেনার আগে ফ্লুরাইডের মাত্রা, উপাদান এবং বিশ্বস্ত প্রস্তুতকারকের তথ্য দেখে কিনুন।
সঠিক অভ্যাসই সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসির মূল ভিত্তি।