রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন কায়সার কামাল।
গত শুক্রবার বিকেলে গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর এ সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ-সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার নির্বাচন কমিশন একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা তো প্রস্তুতি শুরু করছি।
“প্রথা অনুযায়ী এখন স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সিইসি। ইসি সচিবালয় দু-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের সূচি চাইবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যখন সময় দেবেন, তখনই এই বৈঠক হবে।”
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদের সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। এ জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।