মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি - রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিই এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। নতুন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
আলোচনায় থাকা সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা চার নেতা হলেন - স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং ড. আবদুল মঈন খান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দল ও দলের বাইরের অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতি পদের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবেও তিনি পরিচিত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। দলের প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বিভিন্ন সময়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ড. আবদুল মঈন খানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বিএনপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ এই নেতা অতীতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্পিকারের পদ শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে ওই পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দায়িত্ব পেতে পারেন।
গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বঙ্গভবন থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে সরকারি আবাসস্থল হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার বিকেল থেকেই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অনুযায়ী এ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।