প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৫ (বৃহস্পতিবার)
বিশ্বকাপ মাতানোর পর এবার রিও প্রযুক্তি সম্মেলনে স্পিকার ভোজিনহা

বিশ্বকাপের সেই রূপকথার পর তিনি এখন আর কেবলই একজন গোলরক্ষক নন; পরিণত হয়েছেন নেতৃত্ব, অধ্যবসায় আর মানসিক দৃঢ়তার এক বিশ্বমডেলে । কেপভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা এবার ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে ডাক পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্মেলন ‘রিও ইনোভেশন উইক’-এ। পাশাপাশি, নিছক জনপ্রিয়তার মোহ এড়িয়ে নিজের ফুটবলীয় যোগ্যতায় নতুন ক্লাব হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন চিলির বিখ্যাত দল 'কোলো কোলো'-কে।

বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কথা ফুটবল বিশ্ব হয়তো সহজে ভুলবে না। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক এক যাত্রার সাক্ষী করেছিলেন জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস, যিনি ফুটবল দুনিয়ায় ভোজিনহা নামেই পরিচিত। সেই টুর্নামেন্ট তাকে রাতারাতি পরিণত করে এক বৈশ্বিক তারকায়।

তার এই তারকাখ্যাতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে যার অনুসারী ছিল ৫০ হাজারের নিচে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা অবিশ্বাস্যভাবে ছুঁয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখে (২৯.৫ মিলিয়ন)! অর্থাৎ অনুসারী বেড়েছে ৬৫ হাজার শতাংশেরও বেশি। ইকার কাসিয়াস, কেইলর নাভাস, থিবো কোর্তোয়া, ম্যানুয়েল নয়্যার, বুফন থেকে শুরু করে বর্তমানের এমিলিয়ানো মার্টিনেজ— জনপ্রিয়তায় এই মুহূর্তে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ভোজিনহা।

মাঠের এই পারফরম্যান্স আর লড়াকু জীবনের গল্প এবার প্রতিধ্বনিত হবে প্রযুক্তির মঞ্চে। রিও ইনোভেশন উইকের আয়োজকরা ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, ভোজিনহা সেখানে কথা বলবেন তার ক্যারিয়ার, নেতৃত্ব এবং চরম চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে। বিশ্বকাপের সেই অনুপ্রেরণার গল্প এখন আর শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

এদিকে, বিশ্বকাপের পর লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিসহ একাধিক ক্লাবের সঙ্গে তার নাম জড়ালেও ভোজিনহা ছিলেন নিজের নীতিতে অটল। যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কেবল জনপ্রিয়তা বা মার্কেটিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করেই যেন কোনো ক্লাব তাকে দলে নেয়।

নিজেকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত দাবি করে ভোজিনহা জানিয়েছিলেন, অন্তত আরও দু-এক মৌসুম পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যেতে চান তিনি। অবশেষে তার সেই চাওয়াই পূরণ হয়েছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষক আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চিলির শীর্ষ ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে।

ফুটবল মাঠের পর এবার নতুন ক্লাব আর প্রযুক্তির মঞ্চ— সবখানেই এখন ভোজিনহার জয়জয়কার।