প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:১৪ (বৃহস্পতিবার)
১৬ বছর পর স্প্যানিশ বিপ্লব, আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ

মাঠের ভেতরের ফুটবল নাকি মাঠের বাইরের নাটক - আসলে কোন বিষয়ে বেশি মন আর্জেন্টিনার, এই প্রশ্নই এখন বিশ্বজুড়ে! নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল  ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর উড়তে থাকা তরুণ স্পেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের ৬০ বছর আগের হারের প্রতিশোধ তো দূরের কথা, মাঠের খেলায় যে চরম দৈন্যদশা দেখাল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা, তা স্রেফ লজ্জাজনক।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আর্জেন্টিনাকে নাচিয়েছে স্পেনের তরুণরা। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো রক্ষণে দেয়াল তুলে প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসদের আটকে না রাখলে হয়তো নির্ধারিত সময়েই লজ্জার ষোলকলা পূর্ণ হতো। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র।

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল ফাইনাল ম্যাচে গোল অভিমুখে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি! 
মেজাজ হারিয়ে  ৯৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেজ। জিনেদিন জিদান ও পেদ্রো মোনজনদের মতো ফুটবলারদের পাশে নাম লিখিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখার এই 'কুখ্যাতি' অর্জন করলেন তিনি। ১০ জনের আর্জেন্টিনার দুর্বলতার সুযোগ নিতে ভুল করেনি স্পেন। ১০৬ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা।

খেলার মাঠে হারতেই পারে যেকোনো দল, কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় মাঠের হারের চরম হতাশায় স্প্যানিশ ফুটবলারদের ওপর চড়াও হলেন পারেদেস। ফাইনালের মঞ্চে এমন উগ্র আচরণ আর্জেন্টিনার সম্মানকে আরও একবার ক্ষুণ্ন করল। 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে  চিলির কাছে পেনাল্টি মিস করে কান্নায় ভেঙে পড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর ২০২৬ সালে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে, বার্সেলোনায় বেড়ে ওঠা যে মেসি একসময় স্পেনের জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তাকে আজ সেই স্পেনের তরুণদের কাছেই ফাইনালের চরম হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো।

১৯৮০ সালে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে স্পেনকে হারানোর যে গর্ব আর্জেন্টিনার ছিল, ২০২৬ সালে এসে ফিনালিসসিমার হারের প্রতিশোধ নিয়ে নিউ জার্সিতে নতুন ইতিহাস লিখল লা রোজা। আর মাঠের খেলায় জঘন্য পারফরম্যান্স আর মাঠের বাইরে উগ্র আচরণ মিলিয়ে একরাশ হতাশা নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরলো আর্জেন্টিনা।