মানুষের পর পৃথিবীর ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রে নিজের পরিবেশকে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন করতে পারে যে প্রাণী, তার নাম বিভার বা জল ইঁদুর। প্রকৃতির এই বিস্ময়কর ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি সবচেয়ে বড় বাঁধটির খোঁজ পাওয়া যায় কানাডার উড বাফেলো ন্যাশনাল পার্কে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৩০ মিটার! মহাকাশ থেকেও এদের তৈরি এই সুবিশাল বাঁধের অস্তিত্ব চোখে পড়ে।
তবে এই সুদক্ষ কারিগরদের ইতিহাস বেশ করুণ। প্রায় ৪০০ বছর আগে যুক্তরাজ্য থেকে বন্য বিভার পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। মূলত পশম, মাংস এবং বিশেষ করে তাদের সুগন্ধি গ্রন্থির বা 'কাস্টোরিয়াম'-এর জন্য এদের নির্বিচারে শিকার করা হতো। কস্তুরী ও ভ্যানিলার মতো সুঘ্রাণযুক্ত এই নির্যাস একসময় পারফিউম তৈরি এবং খাবারে স্বাদ বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতো।
আশার কথা হলো, গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিভার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আধা-জলজ এই প্রাণীদের শারীরিক গঠন সত্যিই চমকপ্রদ। খেয়াল করলে দেখবেন, এদের মজবুত দাঁতের রং উজ্জ্বল কমলা। কারণ, এদের দাঁতের এনামেলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। গাছের বাকল এদের প্রধান খাদ্য। আর এই শক্তিশালী দাঁত দিয়ে তারা অনায়াসে ডালপালা ও আস্ত গাছ কেটে ফেলতে পারে।
জলের নিচে এদের জীবনযাপন আরও রোমাঞ্চকর। এদের ঠোঁট সামনের দাঁতের পেছনের দিকে বন্ধ হতে পারে, ফলে পানি না গিলেই এরা জলের নিচে কাঠ কাটতে বা বহন করতে পারে। এছাড়া জলের নিচে দেখার জন্য এদের চোখের ওপর স্বচ্ছ পর্দার মতো পাতা থাকে, আর কান ও নাকের ছিদ্র বন্ধ করে এরা দিব্যি সাঁতার কাটতে পারে।