প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬ ১৬:১৬ (বৃহস্পতিবার)
আনচেলত্তির রিচার্জ মাস্টারক্লাস: জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

আজ হিউস্টনে আমরা যা দেখলাম, তা কেবলই ৯৪ মিনিটের একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। এটি ছিল মানুষের মনস্তত্ত্ব আর এনার্জি ম্যানেজমেন্টের এক অনবদ্য ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস! রাউন্ড অফ থার্টি টু-এর এই ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। আর এই অবিশ্বাস্য জয়ের নেপথ্যের নায়ক মাঠে থাকা কোনো খেলোয়াড় নন, বরং ডাগআউটে থাকা একজন মাস্টারমাইন্ড—ডন কার্লো আনচেলত্তি।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল সেলেসাওদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে যখন জাপান ১-০ তে এগিয়ে গেল, বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ভক্তদের মনে তখন ভয়ের কাঁপন। জাপানের হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং আর জমাট ডিফেন্স ব্রাজিলকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে ফেলেছিল। প্রথমার্ধ শেষে ব্রাজিল যখন পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায়, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ তখন চরম উৎকণ্ঠায় ভরপুর।

আনচেলত্তির এই শান্ত পরিবেশই ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে "রিচার্জ" করে দেয়। বড় লক্ষ্যকে সহজ ও ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে জয়ের রাস্তা তৈরি করার এই "রিচার্জ" ফর্মুলা ব্যবহার করেই তিনি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র কোচ হিসেবে ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। পিএসজি, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ—সবাই আনচেলত্তির এই শেষ মুহূর্তের মাস্টারস্ট্রোকের শিকার হয়েছে। এবার ক্লাব ফুটবলের সেই কামব্যাক ম্যাজিক তিনি নিয়ে এলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলেও।


এই মাইন্ড রিচার্জের ফল হাতেনাতে মিলল বিরতির পরপরই। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর বুলেট গতির হেড শুধু সমতাই ফেরাল না, পুরো স্টেডিয়ামের মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিল ব্রাজিলের দিকে। মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য ফিরে আসার পর, আনচেলত্তি এবার তাঁর আসল ট্যাকটিক্যাল অস্ত্রটি ব্যবহার করলেন—'এনার্জির পার্থক্য'। ৬৫ মিনিটে মাঠে নামলেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। আনচেলত্তি জানতেন, ৯০ মিনিট অবিরাম দৌড়ে জাপানি ডিফেন্স শেষের দিকে ক্লান্ত হবেই, আর ঠিক তখনই দরকার মার্তিনেল্লির মতো ফ্রেশ ইয়াং ব্লাড।


ম্যাচ গড়াল ইনজুরি টাইমে। জাপানের ব্যাকলাইন তখন পুরোপুরি ক্লান্ত। আর ঠিক তখনই ফাঁদটি কাজ করল। ৯৪ মিনিট! প্রতিপক্ষের ক্লান্ত ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েস বল বাড়ালেন বিদ্যুৎ গতির মার্তিনেল্লির দিকে। নিখুঁত ফিনিশিং, এবং বল জালে! ব্রাজিল ২, জাপান ১।

এই নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে ১৯৩৮ সালের পর এই প্রথম ব্রাজিল বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল। আনচেলত্তি প্রমাণ করলেন, ফুটবল শুধু পায়ের খেলা নয়, এটি স্নায়ুরও খেলা। সেলেসাওদের এই কামব্যাক যাত্রা এবার পাড়ি জমাবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, রাউন্ড অফ ১৬-এর মহারণে। আনচেলত্তির এই ব্রাজিল কি পারবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নিতে?